খেলা

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমার কটি – তটের ধটি
       কে দিল রাঙিয়া ।
কোমল গায়ে দিল পরায়ে
      রঙিন আঙিয়া ।
বিহানবেলা আঙিনাতলে
এসেছ তুমি কী খেলাছলে ,
চরণ দুটি চলিতে ছুটি
        পড়িছে ভাঙিয়া ।
তোমার কটি – তটের ধটি
       কে দিল রাঙিয়া ।
  
কিসের সুখে সহাস মুখে
       নাচিছ বাছনি ,
দুয়ার – পাশে জননী হাসে
          হেরিয়া নাচনি ।
তাথেই থেই তালির সাথে
কাঁকন বাজে মায়ের হাতে ,
রাখাল – বেশে ধরেছ হেসে
           বেণুর পাঁচনি ।
কিসের সুখে সহাস মুখে
        নাচিছ বাছনি ।
  
ভিখারি ওরে , অমন   করে
         শরম ভুলিয়া
মাগিস কী বা মায়ের গ্রীবা
         আঁকড়ি ঝুলিয়া ।
ওরে রে লোভী , ভুবনখানি
গগন হতে উপাড়ি আনি
ভরিয়া দুটি ললিত মুঠি
       দিব কি তুলিয়া ।
কী চাস ওরে অমন করে
        শরম ভুলিয়া ।
  
নিখিল শোনে আকুল মনে
       নূপুর – বাজনা ।
তপন শশী হেরিছে বসি
       তোমার সাজনা।      
ঘুমাও যবে মায়ের বুকে
আকাশ চেয়ে রহে ও মুখে ,
জাগিলে পরে প্রভাত করে
        নয়ন – মাজনা ।
নিখিল শোনে আকুল মনে
       নূপুর – বাজনা ।
  
ঘুমের বুড়ি আসিছে উড়ি
       নয়ন – ঢুলানী ,
গায়ের ‘পরে কোমল করে
        পরশ – বুলানী ।
মায়ের প্রাণে তোমারি লাগি
জগৎ – মাতা রয়েছে জাগি ,
ভুবন – মাঝে নিয়ত রাজে
        ভুবন – ভুলানী ।
ঘুমের বুড়ি আসিছে উড়ি
         নয়ন – ঢুলানী ।


Leave a Reply