রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বিরহের কবিতা ২০টি

You are currently viewing রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বিরহের কবিতা ২০টি

১৪. বিরহীর পত্র

হয় কি না হয় দেখা , ফিরি কি না ফিরি ,
দূরে গেলে এই মনে হয় ;
দুজনার মাঝখানে অন্ধকারে ঘিরি
জেগে থাকে সতত সংশয় ।
এত লোক , এত জন , এত পথ গলি ,
এমন বিপুল এ সংসার —
ভয়ে ভয়ে হাতে হাতে বেঁধে বেঁধে চলি ,
ছাড়া পেলে কে আর কাহার ।

 তারায় তারায় সদা থাকে চোখে চোখে
      অন্ধকারে অসীম গগনে ।
 ভয়ে ভয়ে অনিমেষে কম্পিত আলোকে
      বাঁধা থাকে নয়নে নয়নে ।
চৌদিকে অটল স্তব্ধ সুগভীর রাত্রি ,
       তরুহীন মরুময় ব্যোম —
 মুখে মুখে চেয়ে তাই চলে যত যাত্রী
      চলে গ্রহ রবি তারা সোম ।


 নিমেষের অন্তরালে কী আছে কে জানে ,
      নিমেষে অসীম পড়ে ঢাকা —
 অন্ধ কালতুরঙ্গম রাশ নাহি মানে ,
      বেগে ধায় অদৃষ্টের চাকা ।
 কাছে কাছে পাছে পাছে চলিবারে চাই ,
      জেগে জেগে দিতেছি পাহারা ,
 একটু এসেছে ঘুম — চমকি তাকাই
      গেছে চলে কোথায় কাহারা !
 ছাড়িয়ে চলিয়া গেলে কাঁদি তাই একা
      বিরহের সমুদ্রের তীরে ।
 অনন্তের মাঝখানে দু - দন্ডের দেখা
      তাও কেন রাহু এসে ঘিরে !
 মৃত্যু যেন মাঝে মাঝে দেখা দিয়ে যায় ,
      পাঠায় সে বিরহের চর ।
 সকলেই চলে যাবে , পড়ে রবে হায়
      ধরণীর শূন্য খেলাঘর ।

 গ্রহ তারা ধূমকেতু কত রবি শশী
      শূন্য ঘেরি জগতের ভিড় ,
 তারি মাঝে যদি ভাঙে , যদি যায় খসি
      আমাদের দু - দন্ডের নীড় —
 কোথায় কে হারাইব! কোন্ রাত্রিবেলা
      কে কোথায় হইব অতিথি !
 তখন কি মনে রবে দু - দিনের খেলা ,
      দরশের পরশের স্মৃতি !

 তাই মনে করে কি রে চোখে জল আসে
      একটুকু চোখের আড়ালে !
 প্রাণ যারে প্রাণের অধিক ভালোবাসে
      সেও কি রবে না এক কালে !
 আশা নিয়ে এ কি শুধু খেলাই কেবল —
       সুখ দুঃখ মনের বিকার !
 ভালোবাসা কাঁদে , হাসে , মোছে অশ্রুজল ,
      চায় , পায় , হারায় আবার ।  

(কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থ)

Leave a Reply