বর্ষার দিনে

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এমন দিনে তারে বলা যায়
          এমন ঘনঘোর বরিষায় –
এমন মেঘস্বরে          বাদল-ঝরঝরে
          তপনহীন ঘন তমসায়।।

          সে কথা শুনিবে না কেহ আর,
          নিভৃত নির্জন চারি ধার।
দুজনে মুখোমুখি          গভীর দুখে দুখি,
          আকাশে জল ঝরে অনিবার –
          জগতে কেহ যেন নাহি আর।।

          সমাজ সংসার মিছে সব,
          মিছে এ জীবনের কলরব।
কেবল আঁখি দিয়ে          আঁখির সুধা পিয়ে
          হৃদয় দিয়ে হৃদি-অনুভব –
          আঁধারে মিশে গেছে আর সব।।

          বলিতে ব্যথিবে না নিজ কান,
          চমকি উঠিবে না নিজ প্রাণ।
সে কথা আঁখিনীরে          মিশিয়া যাবে ধীরে,
          বাদলবায়ে তার অবসান –
          সে কথা ছেয়ে দিবে দুটি প্রাণ।।

          তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
          নামাতে পারি যদি মনোভার!
শ্রাবণবরিষনে          একদা গৃহকোণে
          দু কথা বলি যদি কাছে তার
          তাহাতে আসে যাবে কিবা কার।।

          আছে তো তার পরে বারো মাস –
          উঠিবে কত কথা, কত হাস।
আসিবে কত লোক,          কত-না দুখশোক,
          সে কথা কোনখানে পাবে নাশ –
          জগৎ চলে যাবে বারো মাস।।

          ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়,
          বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।
যে কথা এ জীবনে          রহিয়া গেল মনে
          সে কথা আজি যেন বলা যায়
          এমন ঘনঘোর বরিষায়।।


Leave a Reply