খোকা

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খোকার চোখে যে ঘুম আসে
     সকল – তাপ – নাশা —
জান কি কেউ কোথা হতে যে
     করে সে যাওয়া – আসা ।
শুনেছি রূপকথার গাঁয়ে
জোনাকি – জ্বলা বনের ছায়ে
দুলিছে দুটি পারুল – কুঁড়ি ,
     তাহারি মাঝে বাসা —
সেখান থেকে খোকার চোখে
     করে সে যাওয়া – আসা ।
  
খোকার ঠোঁটে যে হাসিখানি
     চমকে ঘুমঘোরে —
কোন্‌ দেশে যে জনম তার
     কে কবে তাহা মোরে ।
শুনেছি কোন্‌ শরৎ – মেঘে
শিশু – শশীর কিরণ লেগে
সে হাসিরুচি জনমি ছিল
     শিশিরশুচি ভোরে —
খোকার ঠোঁটে যে হাসিখানি
     চমকে ঘুমঘোরে ।
  
খোকার গায়ে মিলিয়ে আছে
     যে কচি কোমলতা —
জান কি সে যে এতটা কাল
     লুকিয়ে ছিল কোথা ।
মা যবে ছিল কিশোরী মেয়ে
করুণ তারি পরান ছেয়ে
মাধুরীরূপে মুরছি ছিল
     কহে নি কোনো কথা —
খোকার গায়ে মিলিয়ে আছে
     যে কচি কোমলতা ।
  
আশিস আসি পরশ করে
     খোকারে ঘিরে ঘিরে —
জান কি কেহ কোথা হতে সে
     বরষে তার শিরে ।
ফাগুনে নব মলয়শ্বাসে ,
শ্রাবণে নব নীপের বাসে ,
আশিনে নব ধান্যদলে ,
     আষাড়ে নব নীরে —
আশিস আসি পরশ করে
     খোকারে ঘিরে ঘিরে ।
  
এই – যে খোকা তরুণতনু
     নতুন মেলে আঁখি —
ইহার ভার কে লবে আজি
     তোমরা জান তা কি ।
হিরণময় কিরণ – ঝোলা
যাঁহার এই ভুবন – দোলা
তপন – শশী – তারার কোলে
     দেবেন এরে রাখি —
এই – যে খোকা তরুণতনু
     নতুন মেলে আঁখি ।


Leave a Reply