কোনো প্রেমের কবিতার কথা বললেই আমাদের সর্বপ্রথম বনলতা সেন কবিতা টির কথা মনে পরে। এই কবিতার লেখক জীবনানন্দ দাশ বাংলার আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মূলত রূপসী বাংলার কবি হিসাবে আমাদের কাছে পরিচিত।
কবি এই কবিতায় একজন নারীর বর্ণনার মাধ্যমে তার প্রতি তাহার প্রেমের কথা বর্ণনা করেছেন। এই কবিতাটি পাঠকদের কাছে প্রেমের কবিতা হিসাবে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করে আছে।
বনলতা সেন কবিতা টি নিম্নরূপ:
বনলতা সেন
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল-সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয়-সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার-অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরও দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন ।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর
হাল ভেঙ্গে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মত
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে – সব নদী – ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।
বনলতা সেন কবিতা টির সারমর্ম :
কবি বলেছেন তিনি অনেক বছর ধরে নানা দেশ ও বিদেশ ঘুরেছেন, পৃথিবীর নানা প্রান্তরে গিয়েছেন। যেমন তিনি গিয়েছেন সিংহল, গিয়েছেন মালয় সাগর। তিনি পরিচিত হয়েছেন পৃথিবীর নানা জাতি নানা মানুষের সঙ্গে, তাদেরকে দেখছেন এবং ভলোবেসেছেন।
কবি আরো বলেছেন তিনি গেয়েছেন পর্বতের গুহায় গিয়েছেন, কোন আর্যাবর্তের কোন প্রাকৃতিক সোন্দর্য উপভোগ করেছেন কিন্তু সে খুঁজে পায়নি কোন শান্তি। তিনি সারাজীবন শুধু খুঁজে বেড়িয়েছেন খুঁজে পেয়েছেন ক্লান্তি আর ক্লান্তি।
কবি আরো বলেছেন পৃথিবীর চারিদিকে জনসমুদ্র ডুব দিয়েছেন। তাকে কেবলমাত্র শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
কবি এই কবিতায় দ্বিতীয় স্তাবক এ নাটোরের বনলতা সেনের শারীরিক সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন এ যেন শিল্পীর হাতে আঁকা অবিস্মরণীয় চিত্র। কবি বনলতা সেনের শারীরিক সৌন্দর্যকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তিনি তার চুলকে বিদিশার নিশা, তিনি তার মুখে শ্রাবন্তী, দারুচিনি দ্বীপ দারুচিনির দ্বীপ এবং চোখকে পাখির বাসার সাথে তুলনা করে এই কবিতায় যেন এক নতুন মাত্রা আমাদের মনে জাগিয়ে তুলেছেন।
কবি আরো বলেছেন সমস্ত দিনের শেষে যদি ফিরে ক্লান্তি স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় যদি একবার দেখা যেতে বনলতা সেনকে তাহলে হয়তো তার সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যেত।
Banalata sen kobita in English:
Banalata sen
jibanananda das
hājāra bachara dharē āmi patha hām̐ṭitēchi pr̥thibīra pathē,
sinhala-samudra thēkē niśīthēra andhakārē mālaẏa-sāgarē
anēka ghurēchi āmi; bimbisāra-aśōkēra dhūsara jagatē
sēkhānē chilāma āmi; āra’ō dūra andhakārē bidarbha nagarē;
āmi klānta prāṇa ēka, cāridikē jībanēra samudra saphēna,
āmārē du-danḍa śānti diẏēchila nāṭōrēra banalatā sēn.
Cula tāra kabēkāra andhakāra bidiśāra niśā,
mukha tāra śrābastīra kārukārya; atidūra samudrēra para
hāla bhēṅgē yē nābika hārāẏēchē diśā
sabuja ghāsēra dēśa yakhana sē cōkhē dēkhē dārucini-dbīpēra bhitara,
Tēmani dēkhēchi tārē andhakārē; balēchē sē, ‘ētadina kōthāẏa chilēna?’
Pākhira nīṛēra mata cōkha tulē nāṭōrēra banalatā sēn.
Samasta dinēra śēṣē śiśirēra śabdēra mata
sandhyā āsē; ḍānāra raudrēra gandha muchē phēlē cila;
pr̥thibīra saba raṅa nibhē gēlē pānḍulipi karē āẏōjana
takhana galpēra tarē jōnākira raṅē jhilamila;
saba pākhi gharē āsē – saba nadī – phurāẏa ē jībanēra saba lēnadēna;
thākē śudhu andhakāra, mukhōmukhi basibāra banalatā sēn.

আমি Susmita Das একজন বাংলা কনটেন্ট রাইটার এবং ব্লগার। আমি বাংলা কবিতা, উক্তি ও জীবনী বিষয়ক লেখা তৈরি করতে ভালোবাসি। আমার লক্ষ্য হলো পাঠকদের জন্য সেরা অনুপ্রেরণামূলক ও মানসম্পন্ন বাংলা কনটেন্ট প্রদান করা। আমি নিয়মিত নতুন নতুন উক্তি, কবিতা এবং তথ্যবহুল পোস্ট প্রকাশ করি যাতে আপনারা প্রতিদিন কিছু শিখতে পারেন।
