কমবেশি প্রায় সকল মানুষ ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে থাকে। আমাদের বিশ্বকবি তার ব্যাতিক্রম নন। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেনি, সেই স্বপ্ন নিয়ে আমাদেরকে কয়েকটি সুন্দর কবিতা উপহার দিয়েছেন। কবিতাগুলি নিচে দেয়া হলো।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্ন নিয়ে কবিতা:
স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার
স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার
নদীর ঘাটে বাঁধা;
নদী কিম্বা আকাশ সেটা
লাগল মনে ধাঁধাঁ।
এমন সময় হঠাৎ দেখি,
দিক্সীমানায় গেছে ঠেকি
একটুখানি ভেসে-ওঠা
ত্রয়োদশীর চাঁদা।
“নৌকোতে তোর পার করে দে’
এই ব’লে তার কাঁদা।
আমি বলি, “ভাবনা কী তায়,
আকাশপারে নেব মিতায়–
কিন্তু আমি ঘুমিয়ে আছি
এই যে বিষম বাধা,
দেখছ আমার চতুর্দিকটা
স্বপ্নজালে ফাঁদা।’
(খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)
স্বপ্ন
কাল রাতে দেখিনু স্বপন —
দেবতা – আশিস – সম শিয়রে সে বসি মম
মুখে রাখি করুণনয়ন
কোমল অঙ্গুলি শিরে বুলাইছে ধীরে ধীরে
সুধামাখা প্রিয় – পরশন —
কাল রাতে হেরিনু স্বপন ।
হেরি সেই মুখপানে বেদনা ভরিল প্রাণে
দুই চক্ষু জলে ছলছলি —
বুকভরা অভিমান আলোড়িয়া মর্মস্থান
কণ্ঠে যেন উঠিল উছলি ।
সে শুধু আকুল চোখে নীরবে গভীর শোকে
শুধাইল , “ কী হয়েছে তোর ?”
কী বলিতে গিয়ে প্রাণ ফেটে হল শতখান ,
তখনি ভাঙিল ঘুমঘোর ।
অন্ধকার নিশীথিনী ঘুমাইছে একাকিনী ,
অরণ্যে উঠিছে ঝিল্লিস্বর ,
বাতায়নে ধ্রুবতারা চেয়ে আছে নিদ্রাহারা —
নতনেত্রে গণিছে প্রহর ।
দীপ – নির্বাপিত ঘরে শুয়ে শূন্য শয্যা – পরে
ভাবিতে লাগিনু কতক্ষণ —
শিথানে মাথাটি থুয়ে সেও একা শুয়ে শুয়ে
কী জানি কী হেরিছে স্বপন
দ্বিপ্রহরা যামিনী যখন ।
(চৈতালি কাব্যগ্রন্থ)
স্বপ্ন হঠাৎ উঠল রাতে
স্বপ্ন হঠাৎ উঠল রাতে
প্রাণ পেয়ে,
মৌন হতে
ত্রাণ পেয়ে।
ইন্দ্রলোকের পাগ্লাগারদ
খুলল তারই দ্বার,
পাগল ভুবন দুর্দাড়িয়া
ছুটল চারিধার–
দারুণ ভয়ে মানুষগুলোর
চক্ষে বারিধার,
বাঁচল আপন স্বপন হতে
খাটের তলায় স্থান পেয়ে।
(খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)
