সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা | Sunil Gangopadhyay Poems

You are currently viewing সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা | Sunil Gangopadhyay Poems

স্মৃতির শহর ১৪

-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

যদি কবিতা লিখে মাঠ-ভর্তি ধান ফলানো যেত
আমি রক্ত দিয়ে লিখতুম সেই কবিতা
যদি কবিতার ছন্দে তৃষ্ণার্ত ভূমিতে ধারা-বর্ষণ হতো
আমি আমার হাড় মজ্জার নির্যাস মিশিয়ে
রচনা করতুম বৃষ্টির বন্দনা স্তোত্র
যদি কবিতা লিখে…
হায়, যদি কবিতা লিখে…
অনেকক্ষণ কান্নার পর ঘুমিয়ে পড়েছে যে শিশু
তার মতন দুঃখ-ছবি আমি আর কিছু দেখিনি জীবনে
যদি কবিতা লিখে…
নিভে যাওয়া উনুনের সামনে কেউ বসে আছে পেটের আগুন জ্বেলে
যদি কবিতা লিখে…
তিল ফুলের মধ্যে আস্তে আস্তে ঢুকে যাচ্ছে শোঁয়াপোকার ঝাঁক
যদি কবিতা লিখে…
ম্লান ছায়ায় উড়ে যাচ্ছে যার যার নিজস্ব পৃথিবী
শহর ছেড়ে যখনই যাই পল্লী আঘ্রাণ নিতে
মনে হয় আমি অন্য গ্রহের মানুষ
তোমার কষ্টে আমি গোপন রোদন করতে পারি
কিন্তু তা কবিতা হবে না
তোমার দুর্দশায় আমি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাগে গর্জে উঠতে পারি
কিন্তু তা কবিতা হবে না
এ এক মায়া-দর্পণ, কবিতা, এই নিয়ে বিরলে কিছু খেলা
আমায় ক্ষমা ক’রো !

তুমি সাহসিনী,
তুমি সব জানলা খুলে রাখো
মধ্যরাত্রে দর্পণের সামনে তুমি–
এক হাতে চিরুনি
রাত্রিবাস পরা এক স্থির চিত্র
যে-রকম বতিচেল্লি এঁকেছেন ;
ঝিল্লির আড়াল থেকে
আমি দেখি
তোমার সুঠাম তনু
ওষ্ঠের উদাস-লেখা
স্তনদ্বয়ে ক্ষীণ ওঠা নামা
ভিখারী বা চোর কিংবা প্রেত নয়
সারা রাত
আমি থাকি তোমার প্রহরী।
তোমাকে যখন দেখি, তার চেয়ে বেশি দেখি
যখন দেখি না
শুকনো ফুলের মালা যে-রকম বলে দেয়
সে এসেছে
চড়ুই পাখিরা জানে
আমি কার প্রতিক্ষায় বসে আছি
এলাচের দানা জানে
কার ঠোঁট গন্ধময় হবে–
তুমি ব্যস্ত, তুমি একা, তুমি অন্তরাল ভালোবাসো
সন্ন্যাসীর মতো হাহাকার করে উঠি
দেখা দাও, দেখা দাও
পরমুহূর্তেই ফের চোখ মুছি,
হেসে বলি,
তুমি যেখানেই যাও, আমি সঙ্গে আছি ।


Leave a Reply